Skip to main content

শেষ ওভারের ৫ বলে আরিফুলের ৪ ছক্কায় খুলনার নাটকীয় জয়

  শেষ ৫ বলে ৪ ছয়ে বরিশালের জয় ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন 'অবিশ্বাস্য' আরিফুল- ক্রিকেট সময় বিডি    ২২ গজের পিচের টিকে থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ এবং  দীর্ঘ বিরতির অপেক্ষার পর মাঠে ফেরা সাকিব। উইকেট পতনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হওয়ার টিম খুলনা, বরিশালের বিপক্ষে হেরে যাবে। কিন্তু শেষ ওভারে আরিফুল হকের চমকে শেষ হাসি হাসলো সাকিব মাহমুদউল্লারা। ফরচুন বরিশাল: ১৫২-৯, ২০ ওভার (ইমন ৫১, হৃদয় ২৭, অঙ্কন ২১, শহিদুল ৪/১৭, সাকিব ১/১৮) জেমকন খুলনা: ১৫৫-৬, ১৯.৫ ওভার(আরিফুল ৪৮*, জহুরুল ৩১, মাহমুদউল্লাহ ১৭, সাকিব ১৫, তাসকিন ২/৩৩) খুলনা ৪ উইকেটে জয়ী  বরিশালের বিপক্ষে টসে জিতে প্রথমে বলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় খুলনার ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং শুরুটা দারুণ হয় খুলনার। প্রথম ওভারে শাফিউল এর প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন মিহিদী হাসান। তামিম ইকবাল করেন ১৫ বলে ১৫ রান। এই ওপেনিং জুটি আউট হওয়ার পর একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে বরিশালের। কিন্তু বরিশালের এক প্রান্ত আগলে রেখে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন পারভেজ হোসেন ইমন। তিনি করেন ৪২ বলে ৫১ রান। ...

শেষ ওভারের ৫ বলে আরিফুলের ৪ ছক্কায় খুলনার নাটকীয় জয়

 


শেষ ৫ বলে ৪ ছয়ে বরিশালের জয় ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন 'অবিশ্বাস্য' আরিফুল- ক্রিকেট সময় বিডি   



২২ গজের পিচের টিকে থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ এবং  দীর্ঘ বিরতির অপেক্ষার পর মাঠে ফেরা সাকিব। উইকেট পতনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হওয়ার টিম খুলনা, বরিশালের বিপক্ষে হেরে যাবে। কিন্তু শেষ ওভারে আরিফুল হকের চমকে শেষ হাসি হাসলো সাকিব মাহমুদউল্লারা।


ফরচুন বরিশাল: ১৫২-৯, ২০ ওভার (ইমন ৫১, হৃদয় ২৭, অঙ্কন ২১, শহিদুল ৪/১৭, সাকিব ১/১৮)


জেমকন খুলনা: ১৫৫-৬, ১৯.৫ ওভার(আরিফুল ৪৮*, জহুরুল ৩১, মাহমুদউল্লাহ ১৭, সাকিব ১৫, তাসকিন ২/৩৩)


খুলনা ৪ উইকেটে জয়ী 


বরিশালের বিপক্ষে টসে জিতে প্রথমে বলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় খুলনার ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং শুরুটা দারুণ হয় খুলনার। প্রথম ওভারে শাফিউল এর প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন মিহিদী হাসান। তামিম ইকবাল করেন ১৫ বলে ১৫ রান। এই ওপেনিং জুটি আউট হওয়ার পর একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে বরিশালের। কিন্তু বরিশালের এক প্রান্ত আগলে রেখে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন পারভেজ হোসেন ইমন। তিনি করেন ৪২ বলে ৫১ রান। অবশেষে ফরচুন বরিশালের সংগ্রহ গিয়ে দাড়ায় ৯ উইকেটে ১৫২ রান। খুলনার হয়ে শহিদুল ইসলাম ৪ টি, শাফিউল ইসলাম ২ টি, হাসান মাহমুদ ২ টি এবং সাকিব আল হাসান ১ টি  উইকেট পান।


বরিশালের দেওয়া ১৫২ রান তাড়া করতে নেমে খুলনার ওপেনিং জুটিও বরিশালের ওপেনিং জুটির মতো দ্রুত ভেঙে যায়। অতঃপর সাকিব এবং মাহমুদুল্লাহ ম্যাচের হাল ধরতে নামলে তারাও ব্যাটিং ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি। সাকিব ১৫ এবং মাহমুদুল্লাহ ১৭ রান করে আউট হয়ে যান।তখন ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে খুলনার পরাজয় নিশ্চিত মনে হলেও শেষমেষ নিশ্চিত ফলাফল ঘটেনি। কেউ ভাবেনি আরিফুল হক ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। প্রথমটি  ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শেষ দিকে রোমাঞ্চ, নাটকীয়টায় ভরপুর। শেষ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ বলে ৪ টি ছক্কা মেরে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন ছাপিয়ে সব আলো নিজের দিকে টেনে নিলেন আরিফুল হক।


বরিশালের ক্যাপ্টেন তামিম ইকবাল ভরসা করে মেহেদী হাসান মিরাজ শেষের ওভার করতে আনেন। খুলনার ৬ বলে দরকার ২২ রান। প্রথম দুই বলে দুই ছয়। ওভারের প্রথম দুই বলেই ছয় সবসময়ই চাপের, সে চাপ থেকে বেরুতে পারলেন না মিরাজ। তার জোরের ওপর করা ডেলিভারিগুলিতে আরও জোরের ওপর ব্যাট চালালেন আরিফুল। তৃতীয় বলে বল লং অনে মারলেও সিংগেল নেন নি আরিফুল। তিনি হয়তো জানতেন তিনিই ম্যাচটি জিতাতে পারবেন। অথচ নন-স্ট্রাইক প্রান্তে তখন শহিদুল ইসলাম, আগের ওভারে তাসকিন আহমেদের শেষ বলে ছয় মেরে যিনি কার্যত খুলনার অবিশ্বাস্য আশাটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তবে আরিফুল আত্মবিশ্বাস তখন তুঙ্গে। 

আর এই আত্মবিশ্বাস রেখে পরবর্তী দুই বলে আবার দুইটি বিশাল ছয়। চতুর্থ বলে কাউ-কর্নার, পঞ্চম বলে মিডউইকেট দিয়ে ছয় মেরে খেল খতম করে দিলেন।ফলাফল ১ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত খুলনার। 


আরিফুল যখন দলকে জয় নিশ্চিত করে মহা উল্লাসে মেতেছেন, মিরাজের চোখেমুখে তখন বিষাদের ছায়া। দলের অধিনায়ক তামিম হয়তো তাঁকে তখন বললেন, ‘এখন ভেবে আর কী হবে!’ আগের ম্যাচে এক মেহেদী ৬ বলে ৯ রান ডিফেন্ড করতে পেরেছিলেন কিন্তু পরের ম্যাচে আরেক মেহেদী পারেননি ৬ বলে ২২ রান আটকাতে! এটিই বোধহয় ক্রিকেটের সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য দেখা গেল যার সৌজন্যে তিনি হলেন আরিফুল হক, সাকিবের ফেরার ম্যাচে নায়ক তো তিনিই।


১৫৩ রানের লক্ষ্য পেরোতে গিয়ে কম খাটতে হয়নি খুলনার। জহুরুল ইসলামের ৩১ রান এবং শামীম হোসেনের ২৬ রান সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। শেষ ওভারে ম্যাচটা এক ঝটকায় খুলনার মুঠোয় আসে আরিফুলের ব্যটিং ঝড়ে!

আর তিনিই হন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।


Comments

Popular posts from this blog

হেরেও হারেননি ধনী

  ম্যাচ হারলেও নিজের কাছে হারেনি ধনি- ক্রিকেট সময় বিডি   গতকাল দুবাইয়ে আইপিএল এর ১৪ তম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস এবং ডেভিড ওয়ার্নারের হায়দ্রাবাদ। যেখানে হায়দ্রাবাদের দেওয়া ১৬৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৬ ওভারে ৩৬ রানে ৩ উইকেট পরে যায়  চেন্নাই সুপার কিংসের। ৩ উইকেট যাবার পর ব্যাটিংয়ে আসেন ধনী। মহেন্দ্র সিং ধোনি ব্যাটিংয়ে আসার পরে আউট হয়ে যান আম্বাতি রাইডু এবং পরবর্তীতে ধনি এবং রবীন্দ্র জাদেজা ভালো একটি পার্টনারশিপ গড়েন। কিন্তু শেষ দুই ওভারে ধনী স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং করতে পারছিল না। দুবাইয়ের উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছেন তিনি। ম্যাচের সেই সময়টাতে তাকে অনেক ক্লান্ত দেখা যায়। সেই সময়টি হলো ম্যাচের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত কারণ তখন চেন্নাই সুপার কিংসের রিকোয়ার্ড রানারেট অনেক বেশি ছিল। তাদের(চেন্নাই সুপার কিংস) দ্রুত রান করার প্রয়োজন ছিল তাই তাদের দুই রান নেওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল এবং ধনি নিজেও চেন্নাই সুপার কিংসের রানের চাকা সচল রাখতে এবং নিজে স্ট্রাইকে থাকার জন্য বেশি করে দুই রান নিচ্ছিলেন। এতে করে তিনি আরো পরিশ্রান্...

দুইটি ম্যাচে তিনটি সুপার ওভার

  ডাবল সুপার ওভারে জয় লাভ করার পর গেইল ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল- ক্রিকেট সময় বিডি দিনের প্রথম ম্যাচে কোলকাতা আর হায়দ্রাবাদের ম্যাচটি ড্র হওয়ার কারনে একটি সুপার ওভার হয় যখানে কোলকাতা জয়ী হয়। তারপর রাতের ম্যাচে পাঞ্জাব আর মুম্বাইয়ের মধ্যকার ম্যাচটি ও ড্র হয় এবং একই দিনের দ্বিতীয় সুপার ওভারটি হয়। কিন্তু সেই সুপার ওভার ও ড্র হয় এবং আইসিসির নতুন নিয়মের কারনে আবার পাঞ্জাব আর মুম্বাইয়ের মধ্যে সুপার ওভার হয়, এবং পাঞ্জাব জয় লাভ করে।  আগে সুপার ওভার হতো একটি। যদি সেই সুপার ওভার ও ড্র হতো তাহলে দ্বিতীয় বার আর কোন সুপার ওভার হতোনা। যেই দলের বাউন্ডারি সংখ্যা বেশি থাকত সেই দলেই জয়ী হত। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে টি-টোয়েন্টির এই আইনটি উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং সুপার ওভার ড্র হলে, দ্বিতীয় সুপার ওভার এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচে ফলাফল না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সুপার ওভার চলবে, এমন নিয়ম দেয় আইসিসি। আর এই নিয়ম পালিত হল ২০২০ সালের আইপিএলের ৩৬ তম ম্যাচে। প্রথম সুপার ওভার ড্র হওয়ার কারণে ম্যাচ গড়ালো দ্বিতীয় সুপার ওভারে। এর আগের ম্যাচেও (৩৫ তম) একটি সুপার ওভার হয় যেখানে প্রথম সুপার ওভারে কলকাতা জয়...

আইপিএলে কোহলি রায়নার পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক গড়লেন রোহিত শর্মা।

আইপিএলে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এর ক্যাপটেন রোহিত শর্মা - ক্রিকেট সময় বিডি শীর্ষ বিষয়বস্তু- *আইপিএলের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন রোহিত শর্মা *আইপিএলের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে রোহিত শর্মা ২০০ ছক্কার রেকর্ড গড়লেন *১৩ তম ম্যাচের পর আইপিএলের পয়েন্ট টেবিল আইপিএলে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এর ক্যাপটেন রোহিত শর্মা। আইপিএলের ১৩ তম ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এর বিরুদ্ধে খেলতে নেমে এই রেকর্ডটি গরেন তিনি। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এর সাথে খেলার আগে তার রান ছিল ৪৯৯৮ অর্থাৎ তিনি দুই রানের দূরত্বে ছিলেন। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এর দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ সামির প্রথম বলেই একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।  তার আগে যে দুজন ব্যাটসম্যান এই ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তারা হলেন, ১) রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি এবং ২) চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটসম্যান এবং পার্ট-টাইম বলার সুরেশ রায়না। পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক এর প্রথম স্থানে...