| ডাবল সুপার ওভারে জয় লাভ করার পর গেইল ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল- ক্রিকেট সময় বিডি |
দিনের প্রথম ম্যাচে কোলকাতা আর হায়দ্রাবাদের ম্যাচটি ড্র হওয়ার কারনে একটি সুপার ওভার হয় যখানে কোলকাতা জয়ী হয়। তারপর রাতের ম্যাচে পাঞ্জাব আর মুম্বাইয়ের মধ্যকার ম্যাচটি ও ড্র হয় এবং একই দিনের দ্বিতীয় সুপার ওভারটি হয়। কিন্তু সেই সুপার ওভার ও ড্র হয় এবং আইসিসির নতুন নিয়মের কারনে আবার পাঞ্জাব আর মুম্বাইয়ের মধ্যে সুপার ওভার হয়, এবং পাঞ্জাব জয় লাভ করে।
আগে সুপার ওভার হতো একটি। যদি সেই সুপার ওভার ও ড্র হতো তাহলে দ্বিতীয় বার আর কোন সুপার ওভার হতোনা। যেই দলের বাউন্ডারি সংখ্যা বেশি থাকত সেই দলেই জয়ী হত। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে টি-টোয়েন্টির এই আইনটি উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং সুপার ওভার ড্র হলে, দ্বিতীয় সুপার ওভার এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচে ফলাফল না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সুপার ওভার চলবে, এমন নিয়ম দেয় আইসিসি।
আর এই নিয়ম পালিত হল ২০২০ সালের আইপিএলের ৩৬ তম ম্যাচে। প্রথম সুপার ওভার ড্র হওয়ার কারণে ম্যাচ গড়ালো দ্বিতীয় সুপার ওভারে। এর আগের ম্যাচেও (৩৫ তম) একটি সুপার ওভার হয় যেখানে প্রথম সুপার ওভারে কলকাতা জয়লাভ করে। আর এরই মাধ্যমে গঠিত হয় আইপিএল ইতিহাসে একই দিনে তিনটি সুপার ওভার এর নতুন রেকর্ড।
প্রথম ম্যাচে কলকাতার দেওয়া ১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে ড্র করে হায়দ্রাবাদ। সুপার ওভার খেলতে ব্যাটিংয়ে নামে ডেভিড ওয়ার্নার এবং জনি বেয়ারস্টো। কিন্তু ২ রানেই হায়দ্রাবাদের ২ টি উইকেট পরে যায় এবং সুপার ওভারে হায়দ্রাবাদের দেওয়া ৩ রান সহজেই তুলে নেয় ইয়ন মরগান এবং দীনেশ কার্তিক। আর ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয় লকি ফার্গুসন। তিনি উইকেট পান মোট ৫ টি, মূল ম্যাচে চার ওভার করে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ টি উইকেট পান এবং আর সুপার ওভার ৩ বলে দুই রান দিয়ে ২ টি উইকেট তুলে নেন এবং কলকাতার জয় নিশ্চিত করেন।
আর রাতের ম্যাচটি হয় অবিশ্বাস্য একটি ম্যাচ। মুম্বাইয়ের দেওয়া ১৭৭ রান তুলতে গিয়ে ড্র করে পাঞ্জাব। কিন্তু সুপার ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর বোলিং নৈপুণ্যে ২ উইকেটে মাত্র ৫ রান করতে সক্ষম হয় পাঞ্জাব। সুপার ওভারে জয়ের জন্য মুম্বাইয়ের দরকার ৬ রান। কিন্তু মুম্বাইয়ের দুই ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও ডি কককে এই ৬ রানের লক্ষ্যও স্পর্শ করতে দেননি পাঞ্জাবের পেসার মোহাম্মদ শামি। বুমরার মতোই ইয়র্কারে কাবু করেছেন রোহিতদের। তার সুপার বোলিংয়ে প্রথম সুপার ওভারে ৫ রানেই আটকে যায় মুম্বাই।
ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। এবার ব্যাটিংয়ে আসেন মুম্বাইয়ের দুইজন হার্ড হিটার হার্দিক পান্ডিয়া এবং কাইরন পোলার্ড। এবং তারা ১ উইকেটে ১১ রান করে পাঞ্জাবের জন্য ১২ রানের লক্ষ্য স্থির করেন। জবাবে পাঞ্জাবের ক্রিস গেইল নেমে বোল্টের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে ম্যাচ পাঞ্জাবের হাতের মুঠোয় এনে দেন। আরেক প্রান্তে থাকা মায়াঙ্ক আগারওয়াল পরবর্তী দুই বলে টানা দুইটি চার মেরে নিশ্চিত করেন পান্জবের জয়। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন পাঞ্জাব ক্যাপ্টেন কে এল রাহুল।
এক ম্যাচে দুটি সুপার ওভার দেখেনি কেউ আগে, তাইতো আইপিএলের এই ম্যাচটি সবার কাছে অন্যরকম লাগে। রোমাঞ্চকর এবং উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আইপিএলে সুপার হয়েছে মোট চারটি, কিন্তু মোট সুপার ওভার সংখ্যা ৫। আর চারটি সুপার ওভারের মধ্যে মুম্বাইয়ের সঙ্গেই হয়েছে ২ টি। বিশ্ব ক্রিকেটে আইপিএলই হয়তো এমন লিগ যেখানে এত ঘনঘন সুপার ওভার হয়। আইপিএলের মোট ৫৬ টি ম্যাচের ৩৬ টির মধ্যে ৪ টি সুপার ওভার হয়েছে। আর বাকি ২০ টি ম্যাচের মধ্যে কি লুকিয়ে আছে আরো সুপার ওভার..?

Comments
Post a Comment